মাহে রমজানের প্রস্তুতি

 আসছে মাহে রমাদান | আপনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন তো?

শেখ তামিম আল আদনান (Ummah Network)



প্রিয় ভাই ও বোন, কেমন আছেন আপনারা?

আপনাদের সময়গুলো সুখ ও সমৃদ্ধিতে কাটুক। ইবাদত ও নেক আমলের মধ্যে কাটুক সব সময় এই দোয়াই করি।

রমাদানের সুভাগমনের খবর আপনারা শুনতে পেয়েছেনত? আল্লাহর বান্দারা অনেকে রজব মাসের শুরুতেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। আপনার কি খবর? রমাদানকে স্বাগত জানাতে আপনি প্রস্তুতি নিচ্ছেনত?

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে রমাদানের প্রস্তুতি নিতে হবে কিংবা কিভাবে নিতে হবে সেটাই জানেন না। যে কারনে তারা এর রহমত ও বরকত থেকে বঞ্চিত হন।

আল্লাহ আমাদের ভাই-বোনদের রমদানের প্রস্তুতি নেবার তওফিক দিন।

আজ আমরা রমাদানের প্রস্তুতি বিষয়ক ১০টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। অমা তাওফিক ইল্লা বিল্লাহ।


১ম আমল : নিয়ত ও সংকল্প

হেলায় ফেলায় জীবনের অনেক রমাদান আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। আসন্ন রমাদান যেন অন্য সকল রমাদান থেকে একেবারে আলাদা হয় এজন দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করুন। মনে মনে কটিন ভাবে নিয়ত করুন এ রমদানের প্রতিটি মুহুর্তকে আপনি কাজে লাগাবেন। মজবুদ সংকল্প রমদানের প্রস্তুতিতে আপনাকে অনেকদুর এগিয়ে রাখবে।


২য় আমল : দোআ

এখন থেকেই বেশি বেশি দোআ করুন। হে আমার রব আমার হায়াতকে এমন ভাবে প্রলম্বিত করুন যেনো আমি এ রমদানের রহমত ও বরকত লাভ করতে পারি। আমাকে সুস্থ্যতা দান করুন যেনো আমি ঠিকমতো সিয়াম সাধনা করতে পারি।


৩য় আমল : পূর্বপরিকল্পনা

রমাদান মাসের সম্পুর্ণ পরিকল্পনা এখনই সম্পন্ন করুন। এ পরিকল্পনায় আপনার পরিবারে সকল সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করুন। রমাদানের আগেই সকল ভারি কাজগুলো সম্ভব হলে শেষ করে ফেলুন। রমাদান জুরে যে সকল বই-পুস্তক পড়বে বলে ঠিক করেছে সেগুলো সংগ্রহ করে ফেলুন এখনই। কোন উস্তাদের কাছে যদি কোরআন শুদ্ধ করে পড়ার জন্য ভেবে থাকেন তবে এখনই উস্তাদের সাথে কথা বলে ঠিক করে রাখুন। সম্ভব হলে রমাদানের শেষ দশ দিন এতেকাফ এর নিয়ত করে ফেলুন এবং তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। 


৪র্থ আমল : রমাদানের ফাজায়েল ও মাসায়েল শিক্ষা

রমাদানের আগেই রমাদানের সকল ফাজায়েল ও মাসায়েল শিখে নিন। এর জন্য ভালো ভালো বই সংগ্রহ করুন। সম্ভব হলে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নিন। নিজে শিখুন এবং পরিবারের ছোট বড় সবাইকে তা শিক্ষা দেন।


৫ম আমল : বিগত রমাদানের কাজা আদায়

বিগত রমাদানে যদি কোন কাজা রোজা থেকে থাকে তা এই রমাদান আসার আগেই সম্পন্ন করুন।


৬ষ্ঠ আমল : সালাতে মনোযোগ

যে সকল ভাই-বোন ভেবে রেখেছেন রমাদানের প্রথম দিন থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামায নিয়মিত পড়বেন তারা সতর্ক হোন। হয়তো রমাদান আপনার জীবনে আর আসবেই না। অতএব: বিগত কাজা নামাজের জন্য অনুশোচনা করে এখন থেকেই নামাজে নিয়মিত হয়ে যান। দেখবেন রমাদান এসে আপনার জীবনকে নামাজের সাথে একাকার করে দিবে ইনশাআল্লাহ। 


৭ম আমল : গুনাহ ও বদঅভ্যাস পরিত্যাগ

যে ভাই ও বোন মনে করে রেখেছেন রমাদান এলে সকল বদঅভ্যাস পরিত্যাগ করবেন তাদেরকে বলছি- নীজের উপর জুলুম করবেন না, বদঅভ্যাস এখনই ত্যাগ করুন, গুনাহ এর কাজ ছেড়ে দিন। নয়তো রমাদান আসার আগেই সে সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে। গুনাহ করতে করতে আপনি রমাদানে প্রবেশ করবেন আর আপনি রমাদানের রহমত আর বরকত পেয়ে যাবে এটা কি করে হতে পারে। রমাদান আসার আগেই সব ধরনের গুনাহ থেকে তাওবাহ করুন। 


৮ম আমল : কুরআন, হাদিস ও ধমীর্য় পুস্তক অধ্যায়ন

এখন থেকেই নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত শুরু করে দিন। যারা আগে থেকেই তেলাওয়াত করতেন তারা তেলাওয়াতের সময় বাড়িয়ে দিন। এর পাশাপাশি তাফসির ও হাদিস সহ অন্যান্য ধর্মীয় বই পুস্তক পড়ার প্রতি মনোযোগি হোন।


৯ম আমল : সাদাকা

এখন থেকেই গরিব দুখিদের খবর নিন। সাধ্য মতো সহযোগিতা করুন। রমাদানের প্রস্তুতি নিতে তাদেরকে সহযোগিতা করুন। তাদের রমাদান বিষয়ে কোন সমস্যা থাকলে তা সমাধান করে দেয়ার চেষ্টা করুন।


১০ম আমল : দাওয়াহ ইলাল্লাহ

আপনার পরিবারে রমাদান এর দাওয়াহ দিন। আপনার বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশীদের রমাদানের সকল আমল এবং গুরুত্ব বোঝান, তাদের সময় দিন। তাদেরকে নিয়ে মসজিদে কিংবা কোন স্থানে বসে আলোচনা করুন। সম্ভব হলে কোন অভিজ্ঞ এবং স্কলারের কাছে বসে নসিহা নিন।


পুরো ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন



 রমজানের প্রতিদিনের রুটিনে কেমন হওয়া উচিত?

আবু ত্ব-হা মুহাম্মাদ আদনান



১। এশার নামাজের পর অন্য কোন কাজ না করাই ভালো, চাইলে করা যেতে পারে-

দ্বীন চর্চা

কোরআন তেলাওয়াত

পারিবারিক তা’লিম

২। রাত ১০ থেকে ১১ টার মধ্যে ঘুমাতে হবে। ঘুমের আগে শুয়ে (চোখ বন্ধ করে)

আয়াতুল কুরসী - ১ বার

সুরা বাকারার শেষ ৩ অথবা ২ আয়াত

সুরা ফালাক, নাস, ইখলাস ১ বার করে

পারলে কাফিরুন, মুলক ১ বার করে

৩৩ বার সুবহানআল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহুআকবার

৩। রাত ২/২.৩০ সময়ে ঘুম থেকে উঠা

এ সময় আল্লাহ তাআলা প্রথ আকাশে নেমে আসেন

তিনি বলেন-

কে আছে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দিবো,

কে আছে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি ক্ষমা করে দিবো,

কে আছে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিবো।”

রাত ২ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত সময়টাকে মুল্যায়ন করতে হবে।

প্রথম রাতে তারাবিহ পড়লেও এ সময় কিয়ামুল লাইনের নামাজ পড়তে হবে।

রাকআত কে মুল্যায়ন না করে নামাজের সময় এবং সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিতে হবে।

তাহাজ্জুদ নামাজ খুব ধীরে এবং লম্বা সময় নিয়ে পড়তে হবে।

নামাজে লম্বা সুরা পড়া, লম্বা সুরা না জানলে ছোট ছোট সুরাই রাকাতে দশবার করে পড়া।

মন ভরে আল্লাহর কাছে মোনাযাত করবো (হাত তুলে/ নাতুলে/ সেজদায় যে কোন ভাবে)

৪। সাহরি পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক সাথে খাওয়া এবং শক্তি যোগাবে এমন খাদ্য দিয়ে খাওয়া।

হাইজেনিক খাবার থেকে বিরত থাকা।

অল্প ভাত, দুধ, খেজুর, মধু।

৫। ফজরের সালাত সেহরী শেষে মসজিদে গিয়ে পড়তে হবে।

ফসরের সালাতের শেষে জিকিরগুলো পড়া একেবারে সূর্য উঠা পর্যন্ত।

সূর্য উঠার পর ২ রাকাত ইশরাক এর সালাত পড়া। 

৬। এরপর বাসায় এসে চাইলে কিছুটা রেষ্ট নেয়া।

কোরআন ও হাদিস অধ্যায়ন করা (পরিবারের অন্যদের নিয়ে)।

৭। দুপুর থেকে ইফাতার পর্যন্ত

ইসলামী আলোচনা সভা করা

কোরআন/হাদিস দারস

ধর্মীয় গবেষনামুলক পড়া/লেখা।

৮। ইফতারে বেশী বেশী মানুষকে ইফতার করানোর চেষ্টা করা।

এমন বেশি খাবার না খাওয়া যাতে রোজার আধ্যাতিকতা নষ্ট করে ফেলে।

ইফতারের পর কিছুটা রেষ্ট নেয়া।

৯। আগে আগে তারাবিহ নামাবি সালাতে উপস্থিত হওয়া।

ধীরে ধীরে সালাত পড়া এবং পড়ার পরিবেশষ তৈরী করা।

সালাতের পর বাইরে বা বাজারে সময় নষ্ট না করে বাসায় ফিরে আসা।


পুরো ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন